সেমাগ্লুটাইড বা Semaglutide, যা ওজ়েমপিক বা Ozempic Tablets নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তা খেলে দ্রুত ওজন কমতে সাহায্য পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এর কোনও ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। বরং সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, ওজ়েমপিক শুধুমাত্র ওজন কমানোতেই নয়, শরীরের অন্য উপকারেও আসতে পারে।
Ozempic Tablets Uses, Effects or Side Effects for Weight Loss
বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে Ozempic Tablets বা সেমাগ্লুটাইড বা Semaglutideনিয়ে আলোচনা থামছেই না। যদি শুধুমাত্র ওষুধ খেয়েই হওয়া রোগা সম্ভব হয়, তবে জীবনের অর্ধেক সমস্যা সত্যিই মিটে যাবে। এই সম্ভাবনা নিয়েই বিদেশের বাজারে সহজলভ্য এই ওষুধ এখন ভারতেও পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু ভারতীয় ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনও সন্দেহ রয়ে গেছে।
অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, সেমাগ্লুটাইড (Semaglutide), যা ওজ়েমপিক বা Ozempic Tablets নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তা খেলে দ্রুত ওজন কমবে, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। যদিও এই দাবির পক্ষে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও এক গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, ওজ়েমপিক শুধু ওজন কমাতে সহায়তা করে না, বরং শরীরের অন্যান্য উপকারিতাও দেয়। বিশেষত, যারা ডায়াবিটিসের কারণে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের জন্য এই সেমাগ্লুটাইড অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজঃ
ডায়াবিটিসে আক্রান্ত অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ় (PAD) দেখা দেয়, যা একটি গুরুতর রক্ত সংবহনজনিত সমস্যা। এই রোগে ধমনীগুলি সরু হয়ে যাওয়ার ফলে হাতে-পায়ে সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে ব্যাহত হয়। এর ফলে রোগীর পায়ে ব্যথা, অবশ ভাব ও দুর্বলতার সম্মুখীন হন, যা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে আক্রান্ত অঙ্গগুলিতে গ্যাংগ্রিন বা টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যার ফলে গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করে অঙ্গ বাদ দিতেও হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা এবং যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
গবেষণার ফলাফলঃ
ডায়াবিটিস ও পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ়ে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের উপর এক গবেষণায় নিয়মিত ১ মিলিগ্রাম করে সেমাগ্লুটাইড দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের শারীরিক পরিবর্তনগুলোর বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে তাঁদের রক্ত সঞ্চালনের পরীক্ষাও করা হয়েছিল।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, সেমাগ্লুটাইড গ্রহণের পর রোগীরা আগের তুলনায় গড়ে ১৩ শতাংশ বেশি দূরত্ব হাঁটতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু হাঁটার ক্ষমতা নয়, তাঁদের হাত ও পায়ের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রোগটির চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে।
ফলাফলের গুরুত্বঃ
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং কানাডার কার্ডিয়াক সার্জারি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী সুবোধ বর্মা বলেছেন, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজ়িজ় (PAD) একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং জটিল সমস্যা, এবং এর চিকিৎসার জন্য এখনও কোনো নতুন কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, এবং অনেক সময় যন্ত্রণা ছাড়া হাঁটাও তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তাই, যদি কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি এমন কিছু নিশ্চিত করতে পারে, যা হাতে-পায়ে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, তবে তা রোগীদের শারীরিক কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে সাহায্য করবে এবং তাঁদের জীবনের গুণগত মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।